তেল সরবরাহ বাড়লেও কমছে না ভিড়, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনো দীর্ঘ লাইন। মজুত বাড়লেও মাঠপর্যায়ে ভোগান্তি কমেনি।![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল মিলিয়ে একাধিক জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এতে জ্বালানির মজুত বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আগের চাপের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।
কোন জ্বালানির মজুত কত
দেশের জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। এপ্রিল মাসে এর চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টনের কাছাকাছি। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মজুত সীমিত থাকলেও নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।
অন্যদিকে অকটেনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। মাসিক চাহিদার তুলনায় মজুত প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। নতুন চালান যুক্ত হলে এটি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেট্রলের মজুত মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে এবং দৈনিক ব্যবহারও কিছুটা কমেছে। একইভাবে ফার্নেস তেলের মজুত বিদ্যুৎ খাতের জন্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে।
জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে চাহিদা বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বিমান চলাচল বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
![]() |
| তেল সংগ্রহে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল চালকেরা | ছবি:সংগৃহীত |
সরবরাহ বাড়লেও কেন কমছে না ভিড়
জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও তার পুরো প্রভাব এখনো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বের ঘাটতির কারণে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা একদিনে কমার নয়। নতুন চালান এলেও তা সব পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগছে। ফলে সরবরাহ বাড়লেও ভোগান্তি কমতে সময় লাগছে।
সরকারের বক্তব্য
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে নিয়মিত জ্বালানি আসছে এবং বর্তমানে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন করে আরও জাহাজ আসার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়বে। বিশেষ করে ডিজেল ও অকটেনের বড় চালান খালাস হলে চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ভারসাম্য ফিরলে তবেই সাধারণ মানুষ প্রকৃত স্বস্তি পাবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন