মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় যোগাযোগে আসবে বড় পরিবর্তন
কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি। বাস্তবায়িত হলে পর্যটন, শিল্প ও যোগাযোগ খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।![]() |
| মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মাণ হলে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে |
কক্সবাজার ও মহেশখালীর মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ প্রকল্পে আবারও গতি ফিরে এসেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও শিল্পখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, বহুদিন ধরে এই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, সরকারের বর্তমান মেয়াদেই প্রকল্পটির কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক প্রভাব, পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং পরিবেশগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে নদী শাসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়।
সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্ববর্তী সময়ে প্রকল্পটি নানা কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পায়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সেতু নির্মিত হলে মহেশখালীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং পর্যটন শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল বা চৌফলদণ্ডী এলাকা থেকে মহেশখালীর গোরকঘাটা পর্যন্ত সেতুটি নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ি অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংযোগ সড়কসহ পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার হতে পারে। এর মধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫ থেকে ৪ কিলোমিটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হচ্ছে প্রায় ৮ হাজার কোটি থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নে ১ থেকে ২ বছর এবং নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে ৪ থেকে ৬ বছর।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, তীব্র স্রোত, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব বাধা অতিক্রম করে সেতুটি নির্মিত হলে কক্সবাজার ও মহেশখালীর মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন