সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী
সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ
কুষ্টিয়া–১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরী-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণে মাঝে মাঝে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করার ঘটনাও শোনা যায়, যা দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে। তিনি জানান, এই কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার “ফ্যামিলি কার্ড” নামে একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিকে একীভূত করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই
নোয়াখালী–২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক-এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভাতাপ্রাপ্তদের বিদ্যমান তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নীতিমালায় সংশোধন এনে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম–১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী-এর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অতীতে তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। নতুন করে যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে।
দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা
এদিকে সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা থাকায় প্রক্রিয়াটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা শুধু একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।
পাশাপাশি সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান মন্ত্রী। বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং এগুলোর মানোন্নয়নের দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন